ইরানের কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইরানে আবার নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করায় ইরানের চারটি ড্রোনও তাদের বাহিনী সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব
মার্কিন হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৮৩ ডলারে (৭৩ দশমিক ১৫ পাউন্ড) পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ক্রুড অয়েলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা এবং তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে আলোচনার মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। এই সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কা বিশ্ববাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।



