পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে সফলভাবে ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এই অর্জনকে বিদ্যুৎ ইউনিটের কমিশনিং ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।
জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের বিবরণ
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়েছে। ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি জানান, এই কাজে প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি, পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরের ওপরের অংশ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে শত শত অতিরিক্ত পরীক্ষা করা হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে অগ্রগতি
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান বলেন, খুব শিগগির রিঅ্যাক্টরকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নেওয়ার পর ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু ও পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ প্রশস্ত করবে।
প্রকল্পের সার্বিক বিবরণ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রাশিয়ার প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটিতে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর থাকছে। এই প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



