বিশ্বব্যাংকের最新 পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.২৫% এ নেমে আসতে পারে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১৫%। এই হ্রাসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসকে চিহ্নিত করেছে।
প্রবৃদ্ধি হ্রাসের কারণ
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, 'উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়াও প্রবৃদ্ধি হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগ
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে গড় মুদ্রাস্ফীতি ৯.০% থাকতে পারে, যা গত বছরের ৭.৭% থেকে বেশি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে সবচেয়ে বেশি চাপ দিচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩.৫% এ স্থবির রয়েছে, যা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে।
রপ্তানি ও রেমিট্যান্স
তবে রপ্তানি খাতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পোশাক রপ্তানি ১২% বেড়েছে। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহও বেড়েছে, যা অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এনেছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধি আরও কমার ঝুঁকি এড়ানো যেতে পারে।
সরকারি ব্যয় ও রাজস্ব
সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে, বিশ্বব্যাংক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার ৮০% এ পৌঁছেছে। এ কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে পারলে প্রবৃদ্ধি পুনরায় ৮% এর উপরে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



