জাতীয় পেনশন স্কিমে ৩২ মাসে ৩.৭৭ লাখ গ্রাহক, জমা ২৫৫ কোটি টাকা
জাতীয় পেনশন স্কিমে ৩২ মাসে ৩.৭৭ লাখ গ্রাহক, জমা ২৫৫ কোটি

২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’ চালু হয়। শেষ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই স্কিম শুরু হয়েছিল। তবে ৩২ মাসে এতে যুক্ত হয়েছেন মাত্র ৩ লাখ ৭৭ হাজার গ্রাহক, যাদের মাধ্যমে জমা হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা।

উচ্চ পর্যায়ের সভায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা

মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান স্কিমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম এক বছরে প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ যুক্ত হলেও পরবর্তী ২০ মাসে যুক্ত হয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজারের মতো। শুরু থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। পেনশন তহবিলে জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা মুনাফাসহ বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পতনের পর অনিশ্চয়তা ও অংশগ্রহণে ভাটা

২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন যুক্ত হয়েছিলেন এবং জমা ছিল ১৩১ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্কিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, ফলে অংশগ্রহণে ভাটা পড়ে।

সভায় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালে ৯.৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছাবে। এই জনমিতি পরিবর্তন মাথায় রেখে স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লক্ষ্যমাত্রা ও নতুন উদ্যোগ

অর্থমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজনকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। স্কিমকে আকর্ষণীয় করতে তিনি ‘শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম’ চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণ এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জনগণের আস্থা বাড়ানোর নির্দেশ

অর্থমন্ত্রী জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পেনশন কর্তৃপক্ষ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জনগণের সাড়া এখনো তলানিতে।

শুরুতে ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিম চালু হলেও গত জুলাইয়ে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’ স্কিম চালু করতে গিয়ে অংশীজনদের বিরোধিতায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।