দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ ও বয়স্ক মানুষ মাদকাসক্তির কবলে পড়ে আছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ব্যর্থ হয়ে গণমানুষের নিন্দা কুড়াচ্ছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এক মতামতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইয়াবার বিস্তার ও রাজনৈতিক যোগসাজশ
এ মুহূর্তে সবচেয়ে ভয়াবহ মাদক হলো ইয়াবা। এর বিস্তারে কক্সবাজারের এক সাবেক সংসদ সদস্যের নাম বারবার উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর পরিবারের মাদক চোরাকারবারি থেকে অর্জিত সম্পদের মূল্য দেড় লাখ কোটি টাকার নিচে নয়।
মিয়ানমার সংযোগ ও আন্তর্জাতিক মাদক চক্র
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার জেনারেলদের সঙ্গে যুক্ত মাদক উৎপাদন ও বিপণন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হেরোইন, ইয়াবা, মারিজুয়ানা, আইস, কোকেনসহ নানা মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী অবৈধ মাদক ব্যবসার মূল্য বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ব্যর্থতা
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘুষ-বাণিজ্যে জড়িত এবং নিরাপত্তা আতঙ্কে থাকায় কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ। এরশাদ আমলের একটি ঘটনায় দেখা যায়, ৪৪ কেজি হেরোইন আটকের কৃতিত্ব দাবি করলেও আসলে চালানটি স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড আটক করেছিল।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি
শুধু মাদক–সংক্রান্ত অপরাধের কারণে বছরে কমপক্ষে পাঁচ লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। মাদকাসক্ত তরুণদের কারণে কন্যাশিশু, কিশোরী ও ছেলেশিশুদের জীবন বিপর্যস্ত। অনেক নারী ধর্ষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
প্রতিকারে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন
খায়রুল কবির খোকন বলেন, 'এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।'



