সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশে ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে। তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার থেকেই সরকার এ বাজেট প্রণয়ন করেছে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বিদায়ী অর্থবছরের সম্ভাব্য ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বাজেট দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনার আলোকে এবং দীর্ঘদিনের চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণত বাজেট নিয়ে সমালোচনা করা হলেও এবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর বিশিষ্ট ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও বাজেটকে ‘সুচিন্তিত বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে বাজেট ঘোষণার পর মানুষ রাস্তায় নেমে ‘গরিব মারার বাজেট’ বলে প্রতিবাদ করত। কিন্তু এবার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, কারণ এ বাজেট দরিদ্র মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বাজেট সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নৈরাজ্যবাদ ও মৌলবাদ মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সংসদের বিরোধী দল যথাযথ সমালোচনা করেনি।
সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য
সরকারি দলের মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকাতুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এ বাজেটের অন্যতম শক্তি হলো সম্পদের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন এবং করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ স্বস্তি পাবে। তিনি বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাজেটের অন্যতম শক্তি। ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের সফল কারিগর হবে এ বাজেট’, যোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির পথে দেশ এগিয়ে যাবে।
স্বতন্ত্র ও বিরোধী সদস্যদের মতামত
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেটে প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন না হলে বাজেট ঘাটতি আরো বাড়তে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান (যশোর-১) বলেন, এ বাজেট আগের বাজেটের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বড়। তাই এত বড় বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা
আলোচনায় সরকারি দলের আব্দুল মালিক (সিলেট-৩), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), শহিদুল ইসলাম (ফরিদপুর-৪), অ্যাডভোকেট নওয়াজ হালিমা আরলি (সংরক্ষিত নারী আসন-৫), এম মোস্তাফিজুর রহমান (জামালপুর-৩), জসিম উদ্দিন আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), সেলিম ভূঁইয়া (কুমিল্লা-২), আরিফা সুলতানা (সংরক্ষিত নারী আসন-৩০), দীপেন দেওয়ান (রাঙামাটি-২৯৯) এবং বিরোধী দলের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর (ঝিনাইদহ-২), এম মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩), আতিকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২), আবু তালিব (ঝিনাইদহ-৪), নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-১) ও আজিজুর রহমান (যশোর-১) অংশগ্রহণ করেন।



