সিলেট নগরীতে মেট্রোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা শুরু করেছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যানজট কমবে ও অর্থনীতি চাঙা হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সমীক্ষার উদ্যোগ
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই সমীক্ষা পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় জরিপ কাজ শুরু হয়েছে। ডিএমটিসিএলের একজন প্রকল্প পরিচালক জানান, 'সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা রুট, যাত্রী সংখ্যা, ব্যয় এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করব।'
যানজট নিরসনে ভূমিকা
সিলেট শহরের যানজট দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। মেট্রোরেল চালু হলে এই চাপ কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিলেট নগর পরিকল্পনাবিদ মো. শাহজাহান বলেন, 'মেট্রোরেল দ্রুত ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এটি যানজট কমিয়ে নগরীর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'
অর্থনৈতিক প্রভাব
সমীক্ষা শেষে প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১০-১৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, 'মেট্রোরেল সিলেটের বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আনবে। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য সময় ও খরচ সাশ্রয় করবে।'
পরিবেশগত বিবেচনা
পরিবেশবিদরা মেট্রোরেলকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, সমীক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। সিলেট পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'মেট্রোরেল চালু হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে, যা বায়ুদূষণ হ্রাস করবে।'
সম্ভাব্য রুট
প্রাথমিক আলোচনায় সিলেটের প্রধান সড়কগুলো যেমন জিন্দাবাজার, উপশহর, বিমানবন্দর সড়ক এবং শাহজালাল উপশহর এলাকায় মেট্রোরেল চালুর সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত রুট নির্ধারণ করবে সমীক্ষার ফলাফল।
সময়সীমা
সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা শেষ হতে ৬-৮ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল। এরপর প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা ও নির্মাণকাজ শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে সিলেটে মেট্রোরেল চালু হতে পারে।



