বৃহস্পতিবার দুপুরে ভৈরব পৌরসভার বঙ্গবন্ধু শরণি সড়কে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখায় গ্রাহক ফোরকান আহমেদ টাকা জমা দিতে এসে চমকে যান। কার্যালয়ের ভেতরে অস্থায়ী গোলপোস্ট দেখে তিনি প্রথমে অবাক হন, পরে নিজেও চারটি গোল দিয়ে ক্যাশ কাউন্টারের দিকে যান। তিনি বলেন, ‘টাকা জমা দিতে এসে বিশ্বকাপের উত্তেজনায় যুক্ত হয়ে গেলাম, গোল দিলাম। গোলের উল্লাসে লেনদেন করে ভিন্ন রকমের ভালো লাগার অভিজ্ঞতা যুক্ত হলো জীবনে।’
ব্যতিক্রমী আয়োজনের বিবরণ
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করে গ্রাহকদের আনন্দ দিতে এক দিনের জন্য এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। কার্যালয়ের ভেতরে ছোট একটি গোলপোস্টের সামনে ফুটবল রাখা আছে। কর্মকর্তারা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা প্রিয় দলের জার্সি পরে অফিস করছেন। লেনদেন শেষে গ্রাহকেরা কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফুটবল, পতাকা ও বাঁশি পুরস্কার জিতছেন। গ্রাহকদের ইচ্ছা অনুযায়ী গালে পছন্দের দেশের পতাকা এঁকে দেওয়া হচ্ছে। আপ্যায়নে বাদাম, শিমের বীজ, ছোলা, আইসক্রিম, জামের ভর্তা ও চালতার আচার পরিবেশন করা হচ্ছে।
ব্যাংকের উদ্দেশ্য
শাখা ব্যবস্থাপক রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ব্যাংককে মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে। ফুটবল সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বকাপের আবেগ স্থানীয় অর্থনীতিকে ছুঁয়েছে, আর ব্যাংকিং সেবা পেয়েছে এক নতুন অভিজ্ঞতা।’ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাজন খান বলেন, ‘আজ আমরা দেখেছি, গ্রাহক শুধু সেবা নিতে আসেন না, তাঁরা অভিজ্ঞতাও খোঁজেন।’
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের প্রতিক্রিয়া
ভৈরব উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান বলেন, ‘এখানে এসে ব্যাংকিং অর্থনীতির সঙ্গে খেলার সুন্দর যোগাযোগের ইতিবাচক প্রতিফলন দেখলাম।’ ভৈরব ফুটবল একাডেমির সংগঠক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চাইলে জীবনকে নানাভাবে উদযাপন করা যায়। এনআরবিসি ব্যাংক বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে সেটি দেখিয়ে দিল।’ ক্যাশ ইনচার্জ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘গ্রাহক কেবল সংখ্যা নয়, একধরনের প্রতীকী অর্থনীতি, যেখানে বৈশ্বিক খেলার পরিসংখ্যান স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’



