রাজশাহী নগরের সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারুশ্রী জুয়েলার্সে বড় চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুই দোকানের মাঝখানের দেয়াল কেটে চুরি হলেও চোর কোন দিক দিয়ে ঢুকেছে, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পাশের দোকান আফিয়া জুয়েলার্সের শাটারের তালা অক্ষত থাকায় চোর ঢোকার পথ নিয়ে জট কাটছে না।
ঘটনার বিবরণ
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটে। প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবসা চালানো তূর্য সরকার ও তার ছোট ভাই ইমন সরকারের দাবি, চোরেরা দোকান থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ১ হাজার ২০০ ভরি রুপার অলংকার এবং ২০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
কারুশ্রী জুয়েলার্স তিনতলা একটি ভবনের নিচতলায় অবস্থিত। নিচতলায় সবই জুয়েলার্সের দোকান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় একটি আবাসিক হোটেল। কারুশ্রীর পাশের দোকান আফিয়া জুয়েলার্স, যার পাশ দিয়েই হোটেলে ওঠার সিঁড়ি। সেখানে একটি গেট থাকলেও হোটেলের কারণে তা খোলাই থাকে।
দুই দোকানির বক্তব্য
শনিবার সকালে তূর্য সরকারের চাচাতো ভাই শুভ শাটার খুলে দেখেন সবকিছু এলোমেলো, সিন্দুক ভাঙা এবং দেয়ালের একটি অংশ কাটা। তূর্য সরকার আফিয়া জুয়েলার্সের মালিক খন্দকার আরিফুর রহমানকে ফোন করলে তিনিও এসে দেখেন তার দোকানের তালা অক্ষত, দেয়াল কাটা থাকলেও সিন্দুক অক্ষত। সিন্দুকে দেড় লাখ টাকার অলংকার ছিল, কিছু চুরি হয়নি।
খন্দকার আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমার দোকান দিয়ে চোর ঢুকলে শাটারের তালা ভাঙা থাকত। … এমনও তো হতে পারে কারুশ্রীতে চুরির পর চোর দেয়াল কেটে আমার দোকানে ঢুকেছিল। সিন্দুক ভাঙার সময় হয়তো পায়নি।’ অন্যদিকে কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিকরা পাশের দোকানকে সন্দেহ করছেন। ইমন সরকার বলেন, ‘আমাদের সব মালামাল দোকানেই থাকত। … চোর চুরি করে সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরও নিয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পেলাম না। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও পুলিশ ধরল না।’
পুলিশের তদন্ত
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার এসআই মাসুদ কবির বলেন, ‘আমরা দুই দোকানের মালিকের সঙ্গেই কথা বলেছি। কেউই আমাদের সন্দেহের বাইরে নন। তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন হবে।’
শুক্রবার রাতে তূর্য সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, পুলিশ ছাড়াও সরকারের আরও কয়েকটি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। তারা কিছু তথ্য পেয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করছেন। নিশ্চিত হলেই গণমাধ্যমকে বলা হবে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
চুরির প্রতিবাদে স্বর্ণপট্টির সব জুয়েলার্সের দোকান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার তারা বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া অলংকার উদ্ধারের জন্য বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময় পার হয়ে গেছে। পুলিশ কমিশনার আশ্বাস দিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যে কাজ হবে। র্যাবসহ অন্য সংস্থাগুলোকেও বলে দিয়েছেন। তারা আজ রাতে তাদের কর্মসূচির ব্যাপারে বসবেন।



