আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দেশের জেট ফুয়েলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বর্তমানে ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার প্রভাব বাজারে পড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। এতে আগে বাড়ানো দাম দুই ধাপে কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।
বেবিচকের বক্তব্য
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, “কিছুদিন আগে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে তা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনরায় কমানো হয়েছে। এখনকার মূল্য মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, মূলত জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো বা কমানো নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। তারাই মূলত এটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
সর্বশেষ মূল্য তালিকা
জানা যায়, সর্বশেষ ৭ জুনের মূল্য তালিকা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে লিটারপ্রতি দাম কমেছে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ০৮২৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক তুলনা
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইয়াটা) এর তথ্য মতে:
- ভারত: দেশটিতে অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারলাইনসগুলোর জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ১১৫ রুপি। তবে বাজার-ভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক রুটের দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার ১৪৩ থেকে ১৫০ রুপি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- শ্রীলঙ্কা: বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে দেশটিতে প্রতি ব্যারেল জেট ফুয়েলের মূল্য প্রায় ২০৯ মার্কিন ডলার।
- পাকিস্তান: দেশটিতে সম্প্রতি জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে এবং বর্তমানে এর মূল্য প্রতি লিটার প্রায় ২৮৩.৫২ রুপি।
- সৌদি আরব: দেশটিতে কেরোসিন বা জেট ফুয়েলের অফিসিয়াল সরকারি মূল্য প্রায় ১.৫৯ রিয়াল প্রতি লিটার।
- কাতার: কাতারেও আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি লিটার জেট ফুয়েল প্রায় ১.৮০ থেকে ২.০০ রিয়াল-এর মধ্যে বিক্রি হয়।
এভিয়েশন খাতের প্রতিক্রিয়া
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে পুরো এভিয়েশন খাতে প্রভাব পড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
এদিকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় জেট ফুয়েলের দামের ওঠানামা সরাসরি টিকিটের দামে প্রভাব ফেলে। তবে এবার বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মূল্য অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশি পার্থক্যপূর্ণ নয়। তবে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে এভিয়েশন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।



