মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রাহকরা গত কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক উচ্চ ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ বিলের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো পরিবর্তন না থাকলেও বিল হঠাৎ করে বহুগুণ বেড়ে গেছে।
জুন মাসে বিল তিন থেকে চার গুণ বেশি
বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, জুন মাসের বিল স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি এসেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ভুনাগাছ বাজার ও আশপাশের গ্রামের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, বাড়তি বিলের কারণে তারা হঠাৎ করে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।
অনেক গ্রাহক দাবি করেন, বিলে উল্লেখিত ইউনিট তাদের প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের সাথে মেলে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের বকেয়া বিলও যোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা মোট বিল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রাহকরা বারবার বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো সমাধান মেলেনি।
মিটার রিডিংয়ে গাফিলতির অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, মিটার রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিডিং নিচ্ছেন না; বরং তারা আনুমানিক রিডিং বা কয়েক মাসের রিডিং একসাথে দেখিয়ে বিল তৈরি করছেন, যার কারণে স্ল্যাব অনুযায়ী বিল ভুল হচ্ছে। গ্রাহকরা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়, কোনো সঠিক সহায়তা দেওয়া হয় না, এবং বিল সময়মতো না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হয়।
সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে সমস্যা: ডিজিএম
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রঞ্জন কুমার ঘোষ অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি একটি সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে বিল রেকর্ডে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, সমস্যাগুলো শীঘ্রই সমাধান করা হবে এবং মিটার রিডিং বা বিলের কোনো ভুল যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করা হবে। তিনি ইচ্ছাকৃত হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৈধ অভিযোগের ভিত্তিতে বিল সমন্বয় করা হবে।



