ব্যাংক এশিয়ার দৃষ্টিতে এমএসএমই খাত: আগামী পাঁচ বছরে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি
ব্যাংক এশিয়ার দৃষ্টিতে এমএসএমই খাত: অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি

ব্যাংক এশিয়া মনে করে, মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এমএসএমই) খাত আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। তরুণ, প্রযুক্তি-সক্ষম ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তাদের হাত ধরে এই খাত আরও ডিজিটাল, প্রাতিষ্ঠানিক ও দেশীয় ও বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে একীভূত হবে।

উদ্যোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ

এমএসএমই খাতের বিবর্তনের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের একটি ক্রমবর্ধমান জটিল ব্যবসায়িক পরিবেশ মোকাবেলা করতে হবে। দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ, ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তন এবং বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা—এসবই উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ব্যাংক এশিয়া এই গতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে একটি দূরদর্শী কৌশল গ্রহণ করেছে, যা ডিজিটাল রূপান্তর, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়।

ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধি

ব্যাংকটি উন্নত ডিজিটাল ব্যাংকিং সক্ষমতা তৈরি করছে, যার মাধ্যমে দ্রুত, সহজ ও আরও সহজলভ্য আর্থিক সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আর্থিক সাক্ষরতা, পরামর্শ ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা জোরদার করতে এবং টেকসই উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসএমই ও খুচরা ঋণ পোর্টফোলিও ৪০% করার লক্ষ্য

ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্মল বিজনেস বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সাইফুদ্দৌলা শামিম জানান, তাদের ব্যাংকিং রূপান্তর এজেন্ডার অংশ হিসেবে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এসএমই ও খুচরা ঋণ পোর্টফোলিওর সম্মিলিত অংশীদারিত্ব মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৪০%-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে ব্যাংক এশিয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকটি তার এসএমই মূল্য প্রস্তাব পুনর্নকশা করছে, গ্রাহক যাত্রা সহজ করছে, পরিচালন দক্ষতা বাড়াচ্ছে এবং এমএসএমই-এর পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণে উদ্ভাবনী পণ্য ও কাস্টমাইজড আর্থিক সমাধান চালু করছে।

সম্পদ-মুক্ত ঋণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের (সিএমএসই) জন্য অর্থায়নের সুযোগ উন্নত করা একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। ব্যাংক এশিয়া যোগ্য ব্যবসায়ের জন্য সম্পদ-মুক্ত ঋণ সম্প্রসারণ করছে, যেখানে প্রচলিত সম্পদ-ভিত্তিক ঋণ মডেলের পরিবর্তে নগদ প্রবাহ ও ব্যবসায়িক কার্যকারিতা মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ব্যাংকের বিস্তৃত এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রামীণ ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের উদ্যোক্তাদের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশজুড়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করছে।

কৌশলগত অংশীদারিত্ব

অর্থায়নের সুযোগ আরও শক্তিশালী করতে ব্যাংক এশিয়া সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, ফিনটেক কোম্পানি, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য ইকোসিস্টেম অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা করছে। এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ব্যাংককে ঋণ মূল্যায়নের জন্য বিকল্প তথ্য ব্যবহার করতে, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করতে, ঋণ ঝুঁকি কমাতে এবং যোগ্য উদ্যোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের সম্পদ-মুক্ত ঋণ প্রদান করতে সক্ষম করে।

গ্রামীণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

ব্যাংক এশিয়া দূরবর্তী ও গ্রামীণ এলাকার উদ্যোক্তারা শহরাঞ্চলের মতো একই মানের আর্থিক সেবা ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ পান তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজেন্ট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে অব্যাহত বিনিয়োগ এই লক্ষ্য অর্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সমর্থন করা একটি মূল কৌশলগত ফোকাস। ব্যাংকটি নারী-নেতৃত্বাধীন এমএসএমই এবং অন্যান্য অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ অর্থায়ন সমাধান প্রদান করে, যার মধ্যে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ও ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা রয়েছে—সবই অগ্রাধিকারমূলক সুদের হারে। অর্থায়নের বাইরেও, ব্যাংক এশিয়া নিয়মিত আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি, ব্যাংকিং সচেতনতা প্রচারণা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন উদ্যোগ পরিচালনা করে, পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারসহ উদীয়মান খাতের জন্য বিশেষ দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে, ব্যাংকটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা, মৌলিক হিসাববিজ্ঞান, কর, নগদ প্রবাহ ও ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল রূপান্তর ও ই-কমার্স গ্রহণ—এই বিষয়গুলো কভার করে কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগগুলো উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসায়িক ভিত শক্তিশালী করতে এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে সহায়তা করবে।

দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান

এই ব্যাপক উদ্যোগের মাধ্যমে, ব্যাংক এশিয়া উদ্যোক্তাদের শুধু অর্থায়নের সুযোগই নয়, বরং টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করতে চায়, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে।