বিদায়ী অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি কমেছে ০.৫৮ শতাংশ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে
বিদায়ী অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি কমেছে ০.৫৮ শতাংশ

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ৯ মাসই দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। সদ্য বিদায়ী জুন মাসে ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের রপ্তানি ৪৭ শতাংশ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ৪৬ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৭৬ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে ৬০ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্যে ৪৪ শতাংশ ও প্লাস্টিক পণ্যে ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। সার্বিকভাবে জুনে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৪২০ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে টানা তিন মাস (এপ্রিল, মে ও জুন) ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়।

সার্বিক রপ্তানি: লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার কম

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার পণ্য রপ্তানির হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও বছর শেষে ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি কম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।

তৈরি পোশাক: প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক, জুনে ইতিবাচক

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। গত ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাসই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য খাতে প্রবৃদ্ধি

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ। মোট রপ্তানি হয়েছে ১২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চামড়া পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি পৌনে ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ডলার হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ৯৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রপ্তানি কমার কারণ ও ভবিষ্যৎ

রপ্তানিকারকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ভালোই ধাক্কা খেয়েছে। শুধু তা–ই নয়, ইউরোপের বাজারেও তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সংকট আরও প্রকট হয়। সে কারণে তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি কমেছে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, 'নতুন ২০২৬–২৭ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি খুব বাড়বে—এমন প্রত্যাশার সুযোগ কম। কারণ, কিছু ঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক বসাতে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। যুদ্ধ থামলেও ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের বিক্রি কম।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আছে। তা ছাড়া আমাদের মূল্যস্ফীতি আছে ১০ শতাংশের ঘরে, যা প্রতিযোগী দেশ চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়ার ৩-৪ শতাংশ। ফলে সেসব দেশের চেয়ে আমাদের প্রকৃত বিনিময় হার কম। তাতে আমাদের উৎপাদকেরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। সে জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানির জোগানের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমানোর পদক্ষেপ লাগবে।'