প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে ব্যবসায়ীদের জ্বালানি নিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ সহায়তার দাবি
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালু এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানোসহ নানা দাবি তুলে ধরেন।
বৈঠকের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এ বৈঠককে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নতুন এক সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ায় এই বৈঠকের তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিসমূহ
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যবসায়ীরা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তার কথাও বলেন তারা।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ব্যবসায়ীরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে বিমানবন্দরের ঝামেলা ছাড়াই তারা সহজে বাংলাদেশে আসতে পারেন। ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, এনবিআর সংস্কার এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ আহ্বান
আমির খসরু বলেন, মাঝারি উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্যে গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই পদক্ষেপগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অর্থমন্ত্রী জানান, বৈঠকে ব্যবসায়ীদের কী কী সংকট আছে— সেসব বিষয় জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের নানান সংকটের কথা বিগত দিনে আমরা শুনে এসেছি, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মুখ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছিলেন। তাদের কথাগুলোর একটা নোট নেওয়া হয়েছে। অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে, অনেক পেন্ডিং আছে, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।"
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ জব্বার, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, এপেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুর, বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সিইও আহসান খান চৌধুরী, ইনসেপ্টা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোক্তাদির, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, র্যাংগস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী এবং এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকটি সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



