এপস্টেইন কেলেঙ্কারির জেরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েমের পদত্যাগ
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির চাপে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

দুবাইভিত্তিক বন্দর ও লজিস্টিকস জায়ান্ট ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম পদত্যাগ করেছেন। দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ইমেইল যোগাযোগ প্রকাশ্যে আসার পর চাপের মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগ ঘোষণা করা হয়।

মার্কিন নথিতে শত শত ইমেইলের প্রমাণ

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন নথিতে দেখা যায়, এক দশকের বেশি সময় ধরে সুলাইয়েম ও এপস্টেইনের মধ্যে শত শত ইমেইল আদান–প্রদান হয়েছে। এই ইমেইলগুলোতে ভ্রমণ পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক ধারণা এবং এমনকি দুবাই থেকে ‘ইসলামিক’ ডিজিটাল মুদ্রা চালুর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০১৩ সালের এক ইমেইলে এপস্টেইন সুলাইয়েমকে ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুদের একজন’ বলে উল্লেখ করেন, যা তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০০৭ সাল থেকেই এপস্টেইনের সঙ্গে সুলাইয়েমের যোগাযোগ ছিল। নথিতে নারী–সম্পর্কিত আলাপের উল্লেখও রয়েছে, যদিও প্রেক্ষাপট সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্না ও থমাস ম্যাসিই সুলাইয়েমকে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কোম্পানির দ্রুত পরিবর্তন ও অংশীদারদের চাপ

সুলাইয়েমের পদত্যাগের পর ডিপি ওয়ার্ল্ড দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এসা কাজিমকে চেয়ারম্যান এবং যুবরাজ নারায়ণকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কোম্পানির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সুলাইয়েমের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং ওয়েবসাইট থেকেও তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

দুবাই সরকারের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ছয় মহাদেশে বন্দর টার্মিনাল পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক সময়ে অংশীদারদের চাপ বাড়ছিল, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ও কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেনশন তহবিল ‘লা কাইস’ নতুন বিনিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া প্রিন্স অব ওয়েলসের আর্থশট প্রকল্প, যা ডিপি ওয়ার্ল্ডের অর্থায়ন পেয়েছিল, সেটিও যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনে অভিযোগের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও রাজনৈতিক সংযোগ

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এপস্টেইন সুলাইয়েমকে সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাক, ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ গ্রহণ করা উচিত কিনা, সে বিষয়ে এপস্টেইনের কাছে পরামর্শও চেয়েছিলেন সুলাইয়েম।

যুক্তরাজ্যের তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যোগাযোগে এপস্টেইন মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। লন্ডন গেটওয়ে বন্দর প্রকল্পে সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল, যদিও ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে আত্মহত্যা করেন, কিন্তু তার কেলেঙ্কারি এখনও বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। সুলাইয়েমের পদত্যাগ এই কেলেঙ্কারির সর্বশেষ প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।