এপস্টিন কেলেঙ্কারির চাপে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের পদত্যাগ
আলোচিত-সমালোচিত জেফরি এপস্টিন সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের পর থেকে চাপের মুখে ছিলেন দুবাইভিত্তিক বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ শুক্রবার ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সুলায়েমের ব্যবসায়িক প্রভাব ও এপস্টিন সংশ্লিষ্টতা
দুবাই ও মধ্যপ্রাচ্যে একজন খ্যাতনামা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের উন্নতির পেছনে তিনি একজন প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত। তাঁর অনেকগুলো ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্যে নাখিল নামের আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য, যা দুবাইয়ের খ্যাতনামা খেজুর গাছ আকৃতির দ্বীপটি তৈরি করেছে।
আহমেদ বিন সুলায়েমের নাম আগেও জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে জড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নতুন প্রকাশিত নথিতে আবার তাঁর নাম আসায় নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নথিতে দেখা গেছে, ব্যবসা নিয়ে এপস্টিন ও সুলায়েমের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। ক্যারিবীয় সাগরে এপস্টিনের দ্বীপে সফর ও যৌনকর্ম নিয়েও আলাপ করেছিলেন সুলায়েম বলে উল্লেখ রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া ও পদত্যাগের প্রভাব
এসব তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ও কানাডার লা ক্যাসি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দেয়, এপস্টিনের সঙ্গে সুলায়েমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তারা ডিপি ওয়ার্ল্ডে নতুন সব বিনিয়োগ স্থগিত করবে। তবে সুলায়েম পদত্যাগ করার পর দুটি প্রতিষ্ঠানই এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছে।
নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা
সুলায়েমের পদত্যাগের পর ডিপি ওয়ার্ল্ড ইসা কাজিমকে পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আর নতুন প্রধান নির্বাহী হয়েছেন যুবরাজ নারায়ণ। এর আগে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কাজিম। অন্যদিকে, ২০০৪ সাল থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডে কাজ করে আসছেন যুবরাজ নারায়ণ, যিনি এর আগে প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এই পদত্যাগ মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়িক অঙ্গনে একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, যা এপস্টিন কেলেঙ্কারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
