আরডিএ ভবনে পুলিশের সামনে দরপত্র বাক্স ছিনতাই
আরডিএ ভবনে পুলিশের সামনে দরপত্র বাক্স ছিনতাই

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ভবনে পুলিশের উপস্থিতিতে দরপত্র বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আরডিএ ভবনের সামনে ওই নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। কিছুক্ষণ পর একই ভবনের চারতলা থেকে বাক্সটি উদ্ধার করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন, একই ওয়ার্ডের যুবদলের আহ্বায়ক মুন্না, যুবদল নেতা তৌফিক ও সাগর এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিফ ঘটনায় জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নেতাকর্মীরা আরডিএ ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই হঠাৎ করে টেন্ডার বাক্সটি ছিনতাই করে নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করেন। ঘটনার কিছু সময় পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার করে পুনরায় আরডিএ কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিলামের বিস্তারিত

আরডিএ সূত্র জানায়, ২০ এপ্রিল কয়েকটি পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অযোগ্য মালামাল নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। আজ ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। দুপুর ১টায় দরপত্র জমা নেওয়া শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং বেলা আড়াইটায় বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। নিলামে আরডিএ মার্কেটের ব্যবহার অযোগ্য মালামাল, আরডিএ পার্কের গাছ, শিরোইল বাস টার্মিনালের পুরোনো বিলবোর্ডের মালামাল এবং ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস-কাম-রেস্ট হাউসের কিছু ব্যবহার অযোগ্য সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নিলামের প্রায় ৪০০টি শিডিউল বিক্রি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, নিলাম হওয়া মালামালের মোট মূল্য দুই লাখ টাকার মতো হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরডিএ কর্মকর্তার বক্তব্য

আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, দরপত্র বাক্সটি পুলিশের পাহারায় ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক এসে পুলিশের কাছ থেকে জোর করে বাক্সটি নিয়ে যান। পরে দুই মিনিটের মধ্যে ভবনের চারতলায় বাক্সটি রেখে চলে যান তারা। এ ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এরপর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরে তারা বেলা আড়াইটার দিকে বাক্স খোলেন। দরপত্র বাতিল হবে কি না, তা পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পুলিশের বক্তব্য

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আরডিএ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিক্রিয়া

এ ব্যাপারে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। সংগঠনটির কেউ এতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।