কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের সময় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা রোহিঙ্গা নাগরিক আজিম উল্লাহসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে কোস্টগার্ড ও র্যাব। এ সময় মাছ ধরার ট্রলারসহ ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলীর নাফ নদীর জেটি ঘাটে কোস্টগার্ড ও র্যাবের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও জিজ্ঞাসাবাদ
কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশনের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আরাফাত হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত পাচার চক্রের মূলহোতা আজিম উল্লাহ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মিয়ানমারে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে পণ্যের চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার কয়েকজন বোট মালিকের সহযোগিতায় এসব পণ্য মিয়ানমারে পাচার করতেন বলে জানিয়েছেন।’
পাচারের বিনিময়ে মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য আনা হতো
আরাফাত হোসেন আরও বলেন, ‘পাচারের বিনিময়ে আজিম উল্লাহ মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট ও গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
অভিযানের বিবরণ
কোস্টগার্ড জানায়, সোমবার ভোরে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় একটি মাছ ধরা ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ৯০০ বস্তা সিমেন্টসহ ১৩ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বোটের মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে কোস্টগার্ড ও র্যাব-১৫ (সিপিসি-২)-এর যৌথ অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা আজিম উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানায় কোস্টগার্ড।



