রূপায়ণ সিটিতে কন্ডোমিনিয়াম আবাসন: নতুন জীবনধারা
কন্ডোমিনিয়াম আবাসন: আধুনিক সুযোগ ও সম্প্রীতির সমন্বয়

ঢাকার বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ, উদ্যান আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সেই চেনা উঠান। চার দেয়ালের ইট-পাথরের খাঁচায় যখন নাগরিক জীবন বন্দী, ঠিক তখনই আবাসনের সংজ্ঞায় নতুন মাত্রা যোগ করছে ‘কন্ডোমিনিয়াম’। এটি কেবল একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সমন্বিত আবাসন।

ইতিহাসের অংশ হয়ে যাচ্ছে খোলা জায়গা

এখন যেন ইতিহাসের অংশ। একটা সময় যখন ঢাকাসহ দেশের সব শহর এলাকাতেই ছিল খেলার মাঠ, বাড়ির আশপাশে সবুজ গাছপালা, চার-পাঁচতলা বিল্ডিং হোক কিংবা একতলা বাড়ি; সামনে থাকত একফালি উঠান বা খালি জায়গা। বাচ্চারা তাদের বিকেলগুলো হেসেখেলে কাটাতে পারত, বড়রা হাঁটতে বেরোতেন, গল্পগুজব করতেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। তবে এসব দৃশ্যের অস্তিত্ব এখন আর শহুরে জীবনে নেই। শিশুদের খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। হাঁটার জায়গা বলতে কয়েকটি উদ্যান। সাঁতার কাটতে হলে নাম লেখাতে হয় ক্লাবে।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে কন্ডোমিনিয়াম?

জনবহুল এই শহরে জমি কেনা বা এককভাবে বাড়ি বানানো এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে সাধারণ ফ্ল্যাটে পার্ক, জিম বা সুইমিংপুলের মতো সুবিধা পাওয়া অসম্ভব। এই শূন্যতা পূরণ করছে কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্পগুলো। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে এটি জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণগুলো হলো এক জায়গায় সব সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত (লেকসিটি), রামপুরা, মালিবাগ, কাঁচপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্প।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বনানী, গুলশান ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুট বিক্রয়মূল্য ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, মগবাজার এলাকায় প্রতি বর্গফুট কিছুটা কমে ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় ও কৌশল

রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সঠিক সময় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করা অনেকটাই নিরাপদ বলে মনে করেন কনকর্ড গ্রুপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) আমিনুর রহমান। তিনি বলেন, এই খাতে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় হলো বছরের শুরু অথবা শেষের সময়টা। বিশ্বস্ত রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ মেয়াদে ফ্ল্যাটগুলোতে বিনিয়োগ একই সঙ্গে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। এতে প্রতারণা কিংবা চুক্তির বাইরে কোনো অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় না।

তাঁর মতে, কন্ডোমিনিয়ামে একটি সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়। কন্ডোমিনিয়াম মানেই কেবল একটি ফ্ল্যাট নয়, বরং একটি লাইফস্টাইল। তিনি আরও বলেন, ‘একটি কন্ডোমিনিয়ামে থাকলে বাগান করা, লিফট মেরামত, জেনারেটর দেখাশোনা বা ময়লা পরিষ্কারের মতো ঝক্কিগুলো আপনাকে এককভাবে নিতে হয় না। একটি ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা পেশাদার সংস্থা মাসিক সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে পুরো ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ করে। এতে অনেক সস্তিতেও থাকা যায়।’