ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ রুপি বাড়ল, সরকার বলছে বাংলাদেশের চেয়েও কম
ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ রুপি বাড়ল

ভারতে গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ২৯ রুপি বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর আজ ৭ জুন (রবিবার) এক বিস্তারিত আত্মপক্ষ সমর্থনে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের চেয়েও ভারতে এলপিজি গ্যাসের দাম কম।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়েছে। তবে সেই চাপের পুরোটা এখনও ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়নি। দিল্লিতে এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে একটি গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ রুপি থেকে বেড়ে ৯৪২ রুপি হলো। এর আগে গত ৭ মার্চ সিলিন্ডার প্রতি ৬০ রুপি বাড়ানো হয়েছিল। ফলে গত তিন মাসে ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম মোট ৮৯ রুপি বাড়ল।

সরকারের ব্যাখ্যা

দিল্লি ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির পর এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, বর্তমানে ১৪ দশমিক ২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ খরচ ১ হাজার ৬০০ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও দিল্লির একজন সাধারণ গ্রাহককে দিতে হবে ৯৪২ রুপি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীরা নির্ধারিত রিফিলে কার্যত ৬৪২ রুপি পরিশোধ করবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আজ রবিবার দেওয়া সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়াই এই দাম বাড়ানোর মূল কারণ। ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে, যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিশেষ করে সৌদি চুক্তি মূল্যের সঙ্গে যুক্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক তুলনা

ভারতীয় গ্রাহকেরা তুলনামূলক সস্তায় গ্যাস পাচ্ছেন এই দাবির পক্ষে বিভিন্ন দেশের একটি তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে উজ্জ্বলা সুবিধাভোগীদের ৬৪২ রুপির বিপরীতে পাকিস্তানে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৬ রুপি, নেপালে ১ হাজার ২০৭ রুপি, বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ২২৫ রুপি এবং শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ২৪১ রুপি।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

সরকার আরও জানায়, ভারতের মোট এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৫৪ শতাংশ আমদানি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে এই নৌপথ সংকটে পড়লে দেশ ঝুঁকিতে পড়ে। তা সত্ত্বেও, ভারত বিশ্বের অন্যতম দেশ যারা এই সংকটের মধ্যেও নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে পেরেছে এবং দেশে কোনও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতি হতে দেয়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে