বাগেরহাটে মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু নিখোঁজ
বাগেরহাটে মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু নিখোঁজ

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে রাতের বেলা গোসল করার সময় ফাতেমা (৭) নামে এক শিশুকে কুমির ধরে নিয়ে গেছে। সোমবার দিনগত রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ ঘটনার পর মাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা

ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কীভাবে ঘটলো এই দুর্ঘটনা?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে শিশুটি মায়ের সঙ্গে মাজারের দিঘির ঘাটে গোসল করতে নামে। হঠাৎ কুমির আক্রমণ করে শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায়। খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি দিঘির পানিতে নামার পরপরই কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অভিযানে বাধা

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারের কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে বের করতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু ফাতেমার মা মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা মাজার এলাকায় তিন দিন ধরে ঘোরাঘুরি করছে। রাতে মায়ের সঙ্গে গোসল করতে শিশুটি ঘাটে নামে। সে সময় দিঘিতে থাকা কুমির তাকে কামড় দিয়ে টেনে নিয়ে যায়। ফাতেমার চিৎকারে মাজারে থাকা স্থানীয়রা দ্রুত এসে নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী ঘটনা

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল বিকালে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। এ অবস্থায় স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়া দেয়, লাঠি ছুড়ে মারে। এর ফলে কুকুরটি দৌড়ে নারীদের ঘাট থেকে বের হয়ে প্রধান ঘাটের চলে যায়। সেখানে কুকুরকে তাড়া দিতে এগিয়ে আসেন মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার। তার পায়েও কুকুরটি আঁচড় দেয়। এ সময় ফোরকান পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দিঘির ঘাটে পানির নিচে থাকা কুমিরটি কুকুর ধরে নিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর কুকুরের মরদেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে।