কোরবানির ঈদ আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, অথচ যশোরের শার্শা উপজেলায় এখনও জমে ওঠেনি পশুর হাটগুলো। হাটভর্তি কোরবানির পশু থাকলেও ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না হাটে আসা স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা।
হাটে পশু থাকলেও ক্রেতা নেই
শনিবার (১৬ মে) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরের শার্শার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও বিক্রি হচ্ছে কম। এবার দাম নিয়ে ক্রেতাদের তেমন কোনো অভিযোগ নেই। মোটামুটি দামের মধ্যেই রয়েছে কোরবানির গরু।
উপজেলায় প্রস্তুত ১৬ হাজার গবাদিপশু
প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৬ হাজার গবাদিপশু। যার মধ্যে গরু ১৩ হাজার ১০০টি, ছাগল দুই হাজার ৩০০টি ও মহিষ ৯৫০ টি। যদিও চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ৫২৬টি পশুর।
সূত্র জানায়, উপজেলায় ছোট-বড় মিলে এক হাজার ১৩১টি পশু খামার রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করা বড় খামার রয়েছে ১৫টি। অন্যগুলো কৃষক পর্যায়ের খামার। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শার্শার সাতমাইল পশুর হাটে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পশু বেচাকেনা হচ্ছে।
ভারতীয় গরু না এলেও দাম কম
ভারতীয় গরু না এলেও দেশে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। দামও তুলনামূলকভাবে কম। দেশি গরু কিনতে পেরে ক্রেতারা অনেক খুশি।
এদিকে খামারিরা বলছেন, সামনের কয়দিনে ভারতীয় গরু না এলে এ বছর তারা ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারবেন বলে তাদের ধারণা। তবে বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
ধান কাটার মৌসুমে বেচাকেনা জমেনি
এবার যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় স্থায়ীভাবে মাত্র দুটি পশুরহাট বসেছে। এসব হাটে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের পালিত গরুই বেশি উঠেছে। তবে মাঠে ধান কাটার মৌসুম থাকার কারণে অধিকাংশ মানুষ এখন ধান তোলায় সময় দিচ্ছেন। এ কারণে কোরবানির গরু বেচাকেনা জমে ওঠেনি। এদিকে পশু হাটে বিক্রি না বাড়ায় খামারি ও কোরবানি গরু পালনকারীরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
তারা মনে করছেন, কোরবানির গরু এবার কম দামে বিক্রি করতে হবে। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, দেশে বর্তমানে ইরি ধান সংগ্রহের মৌসুম চলছে। ধান এখনও পুরোপুরি মানুষ মাড়াই করতে পারেনি। হাটে যে গরু ৫০-৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সে গরু এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া সম্প্রতি বন্যা এবং ধান কাটার প্রভাবে মানুষের মধ্যে নেই ঈদ ভাবনা।
সাতমাইল হাটের চিত্র
যশোরের শার্শা উপজেলার সাতমাইল পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় গরু ও ছাগলে ভরে উঠেছে হাট। কিন্তু হাটে পশু থাকলেও নেই ক্রেতাদের ভিড়। কয়েকজন আসছেন, দাম করছেন আবার চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা জানান, চলতি মৌসুমে মাঠে ধান কাটা শুরু হওয়ায় যশোরের শার্শার সাতমাইল ও নাভারণ পশুর হাট জমে ওঠেনি। অন্য বছর এইসব হাটে ক্রেতাদের ঢল নামতো। এই বছর ক্রেতার দেখা মিলছে না। যাও দুয়েকজন আসছেন তাদের সঙ্গে দামে মিলছে না। এখন গরু বিক্রি করতে পারবো কি না সেটা নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
খামারিদের কথা
শার্শার সাতমাইল হাটে গরু নিয়ে আসা আসাদুজ্জামান বলেন, অনেক কষ্ট করে শার্শার পশুর হাটে গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখনও গরু বিক্রি করতে পারেনি। এক লাখ টাকার গরু মাত্র ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা দাম হাঁকাচ্ছে। এই হাটে দুই থেকে তিন লাখের ওপরে গরু পাওয়া যাচ্ছে।
হাট পরিচালকের আহ্বান
শার্শার সাতমাইল পশুর হাটের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে পশু থাকলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। সেই জন্য তাদের বড় অঙ্কের লোকসান হতে পারে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতাদের আসার আহ্বান জানান তিনি। সাতমাইল পশুর হাটে গরু প্রতি ৬০০ টাকা পাস থাকলেও আমরা নিচ্ছি ৫০০ টাকা।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বক্তব্য
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপু কুমার সাহা বলেন, যশোরের শার্শা উপজেলায় দুটি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে শার্শা উপজেলার সাতমাইল এবং নাভারন পশুর হাট। এর বাইরেও ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন খামার থেকেও ক্রেতারা গরু ক্রয় কিনছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা তদারকির জন্য আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে সবসময় মনিটরিং করছি।



