কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ১৯৩% বেড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা
কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ১৯৩% বেড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশের কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত এক বছরে প্রায় ১৯৩ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের সর্বশেষ মে মাসের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস শেষে কৃষি খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের মে মাসের শেষে ছিল ৬ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ হলো ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা নতুন ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং নীতিমালা। এই নীতিমালায় ঋণের কিস্তি বা সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের মেয়াদের পরের দিন থেকেই তা ওভারডিউ বা বকেয়া হিসেবে গণনা করার বিধান রাখা হয়েছে। বকেয়ার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ঋণকে নিয়মিত ও খেলাপি হিসেবে ভাগ করা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কঠোর করা এবং গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা কমানোর কারণে কৃষি খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ একসঙ্গে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

বিশেষায়িত ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি খেলাপি

কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক যেমন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে। মোট কৃষি খেলাপি ঋণের প্রায় ৬৫ শতাংশই এসব ব্যাংকে। গত বছর মে মাস শেষে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। এক বছরে তা ৩৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ৬৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৪৬ কোটি টাকায়, যা গত বছর ছিল ৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ইসলামি ব্যাংকগুলোর কৃষি খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬৪ শতাংশ, যা বেড়ে ৯৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১৪ শতাংশ বেড়ে ৮৬০ কোটি টাকা হয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে কোনো খেলাপি ঋণ নেই।

ঋণ বিতরণ বেড়েছে

খেলাপি ঋণ বাড়লেও কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে দেশের ৫৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাস শেষে (জুলাই-মে) ব্যাংকগুলো প্রায় ৩৮ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বিতরণ করতে পেরেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮ শতাংশ। এর বাইরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কৃষি খাতে ১ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। ব্যাংক ও বিআরডিবি মিলিয়ে মে মাস পর্যন্ত মোট কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।

কৃষি খাতের গুরুত্ব

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি খাতের ভূমিকা অনেক। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ; আর দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪৬ শতাংশ কৃষি খাতের। এ কারণে কৃষিঋণ বিতরণে সরকার উৎসাহ দিয়ে থাকে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়। তার পরও এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি।