একীভূত পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে ফেরতের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর
একীভূত পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের আশ্বাস

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরীয়াহ্‌ভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় তিনি এ কথা জানান। এ সময় এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

আমানত সুরক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই, সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তিনি আরো বলেন, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সারসহ জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত আমানতকারী এবং হজ্ব সঞ্চয়কারীদের জন্য বিশেষ মানবিক ছাড় রাখা হয়েছে। ডিপিএস হিসাবের ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তাত্ক্ষণিক উত্তোলন যোগ্য থাকবে এবং বাকি অংশ নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সরকার ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করেছে। এদিকে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬ এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিতর্কিত ধারা বিলোপ

সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। উল্লেখ্য, বিএনপি সরকার গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করে। আইনটি সংসদে পাশের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।

বিতর্কের সৃষ্টি

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে নতুন ধারাটি যুক্ত করার পর বিতর্ক তৈরি হয়। সংসদে বিরোধী দলগুলো ছাড়াও বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে।