দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে এবং ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়াতে আবারও ‘বিশেষ এক্সিট’ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এককালীন পুরো ঋণ পরিশোধ করলে খেলাপি ঋণগ্রহীতারা সুদ মওকুফসহ বিশেষ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।
সার্কুলার জারি
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি-১) এ-সংক্রান্ত সার্কুলার লেটার নম্বর ২৩ জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে পড়লেও যেসব ঋণগ্রহীতার ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে, তাদের জন্য এককালীন বিশেষ এক্সিট সুবিধা চালু করা হয়েছে।
সুবিধার শর্তাবলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় নিষ্পত্তি করা যাবে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশেষ এক্সিট সুবিধা পেতে ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো ঋণের দায় পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করা যাবে। তবে ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল ও ২৪ মে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সার্কুলারের কিছু শর্ত এই সুবিধার ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে।
অগ্রাধিকার খাত
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ এক্সিট সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ঋণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এছাড়া ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে পুনঃতফসিল করা মন্দ বা ক্ষতিজনক শ্রেণির ঋণও এ বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে।
ঋণগ্রহীতাদের জানাতে হবে
সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, এই বিশেষ সুবিধা সম্পর্কে ঋণগ্রহীতাদের অবহিত করতে চিঠি পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে যোগ্য গ্রাহকরা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ এবং ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তিতে এই উদ্যোগ কিছুটা গতি আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, বিশেষ এক্সিট সুবিধা যেন নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি না করে এবং ভবিষ্যতে ঋণখেলাপিদের জন্য ভুল বার্তা না দেয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।



