বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যে ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ করেছে। সোমবার ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ (বিআরপিডি) এক সার্কুলারে সব তফসিলি ব্যাংককে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কিছু ব্যাংক আমানতের সুদহার তুলনামূলক কম রেখে ঋণের সুদহার অত্যধিক বাড়িয়ে দিচ্ছিল, যার ফলে সুদহারের স্প্রেড অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এতে ব্যবসা ও শিল্প খাতের ঋণের খরচ বেড়ে যাচ্ছিল।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্মার্ট (রেফারেন্স রেট ও মার্জিনভিত্তিক) ঋণ ব্যবস্থা চালু হলে আগের স্প্রেড সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু হয়, কিন্তু তখন স্প্রেডের ওপর কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণে দেখেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার কম রেখে ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যার ফলে গড় স্প্রেড কিছু ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের বেশি হয়েছে। চরম ক্ষেত্রে এই স্প্রেড ৮ থেকে ১০ শতাংশেও পৌঁছেছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ব্যতীত সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ওজনযুক্ত গড় ঋণ ও আমানতের সুদহারের পার্থক্য ৪ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এই নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ২৯(২)(সি) ও ৪৫ অনুযায়ী জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রভাব ও প্রত্যাশা
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো গড়ে প্রায় ৬.৫ শতাংশ আমানতের সুদ দিচ্ছে, অন্যদিকে ঋণের সুদহার ১২ শতাংশের ওপরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, নতুন এই সীমা ঋণের খরচ কমিয়ে আনবে, বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে এবং শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি সমর্থন করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চালু করা হলেও কিছু ব্যাংক অত্যধিক স্প্রেড রেখে ঋণগ্রহীতাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়েছিল। এই নতুন পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।



