প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও থার্ড টার্মিনাল চালুতে অচলাবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও থার্ড টার্মিনাল চালু করতে এখনও কোনও অগ্রগতি করতে পারেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। উল্টো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ১৬৫০ কোটি টাকা দেনা পরিশোধের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এই টাকা পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তার সিদ্ধান্ত চাইবে বলে জানা গেছে।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনাগ্রহ ও আলোচনা প্রত্যাখ্যান
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন থার্ড টার্মিনাল নিয়ে আলোচনার জন্য মেইল করে বেবিচককে। তবে ফিরতি মেইলে তারা বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে আবারও চিঠি চালাচালি মানেই এটিকে আরও দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল। আসলে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে থার্ড টার্মিনাল চালু তো দূরের কথা, আলোচনায় অগ্রগতি করতে পারবে না বলেও যথেষ্ট সন্দেহ করছেন তারা।
বেবিচকের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও কর্মকর্তা বদলির গুঞ্জন
এদিকে বেবিচকের প্রশাসনিক কাজে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বদলির গুঞ্জনে এমন অবস্থা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরের বেবিচকের ঊর্ধ্বতন ২/৩ জন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার গুঞ্জনে কাজে মনোযোগী না হওয়া এবং ফাইল আটকে রাখার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অতিসম্প্রতি চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে এক ঠিকাদারের তোপের মুখে পড়েন মেম্বার অপারেশনস মেহবুব খান, যা প্রশাসনিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন ও মতবিনিময়
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেবিচক পরিদর্শনে আসেন। তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং সরেজমিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা দ্রুত টার্মিনালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব সহযোগিতা কামনা করেন।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞের মতামত ও আশঙ্কা
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, "বর্তমান প্রশাসন দিয়ে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যাবে কিনা, তা নিয়ে আমার নিজেরও যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। এডিসির সঙ্গে যে প্রশাসন আলোচনা করে ফলাফল আনতে পারেনি, উল্টো আমাদেরই বিশাল অঙ্কের টাকার খড়গ চেপে বসেছে। সেই কর্মকর্তারা আবারও আলোচনায় বসে কতটুকু সফলতা আনতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "সরকার যদি আন্তমন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে, সেখানে দক্ষ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে, সেক্ষেত্রে একটি পজিটিভ রেজাল্ট আসতে পারে। জাপান ও কোরিয়া আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, তাদের সঙ্গে কাজ করে আমরা ভালো রেজাল্ট আনতে পারতাম, কিন্তু অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা সেটা পারিনি।"
দেনা-পাওনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন
সূত্র জানায়, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অংশ নেওয়া জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের যৌথভাবে ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’ নামে একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে দেনা-পাওনা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ছিল চরমে। এ কারণে মেগা এই প্রজেক্টের কাজ শেষ হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। শুধুমাত্র তাদের কারণে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) দেনা পাওনা পরিশোধে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যায়, যা দেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করে। ওই রায়ে তাদের পক্ষে যায়, যার কারণে ১৬৫০ কোটি টাকা দিতেই হচ্ছে।
