পটুয়াখালীতে ব্যাংক গ্রাহক সেজে টাকা লুটের অভিযোগে তিনজন গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীতে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহক সেজে লাইনে দাঁড়িয়ে সুযোগ বুঝে ব্যাগ কেটে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে। জেলা পুলিশের পাতা ফাঁদে ধরা পড়া এই ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয়
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের মোংলার রবি হাওলাদার, খুলনার রূপসার ঝন্টু শেখ এবং খুলনা মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
গতকাল বিকেলে পটুয়াখালী শহরে সোনালী ব্যাংকের নিউটাউন শাখায় এক গ্রাহকের টাকা চুরির সময় হাতেনাতে আটক হন ওই তিনজন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি ব্যাংকে ঢুকে সাধারণ গ্রাহকের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অবস্থান করতেন। পরে টাকা উত্তোলন করে বের হওয়া কোনো গ্রাহকের ব্যাগ কেটে অর্থ চুরি করতেন। এ সময় সাদা পোশাকে ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা তাঁদের হাতেনাতে আটক করেন।
পুলিশের ভাষ্য
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চক্রটির সদস্যরা পটুয়াখালীতে এসে একই কৌশলে ব্যাংকে ঢুকতেন। গ্রাহকদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে সুযোগ বুঝে টাকা উত্তোলনকারীর ব্যাগ কেটে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
মামলার পটভূমি
গত ১২ জানুয়ারি পুরানবাজার এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব মিয়া ওই ব্যাংক থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা তোলার পর ব্যাগ কেটে টাকা নিয়ে যায় চক্রটি। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হলেও তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবু তালেব (৪০) নামের এই ভুক্তভোগীর মামলায় আজ বুধবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে বিভিন্ন ব্যাংকে অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। গ্রাহকদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা নিঃশব্দে টাকা হাতিয়ে নিত। তবে এবার পুলিশের সচেতনতা ও পাতায় ফাঁদে পড়ে তারা ধরা পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্যাংক এলাকায় এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, কিন্তু এবারের মতো সফলভাবে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। পুলিশ এখন চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
