ইসলামী ব্যাংক খাতে সুশাসন ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারদের
ইসলামী ব্যাংক খাতে সুশাসন ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি

দেশের ইসলামী ব্যাংক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব রিটায়ার্ড ইসলামী ব্যাংকার্স। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস ও বর্তমান সংকট

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ইসলামী ব্যাংকের হাত ধরে দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এরপর ধীরে ধীরে খাতটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সে সময় দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক এবং ২৫টিরও বেশি প্রচলিত ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং শাখা বা উইন্ডোর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছিল।

সংগঠনটির দাবি, একসময় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একাই দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স আহরণ করতো এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সুনাম অর্জন করেছিল। তবে বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত অনিয়ম, লুটপাট ও আর্থিক কারসাজির কারণে এ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুয়া ঋণ বিতরণ, মুনাফা গোপন ও হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংগঠনটি জানায়, এতে আমানতকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রভাব

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী পুনঃনিরীক্ষা করতে হয়েছে এবং খাতটির প্রকৃত অবস্থা নতুন করে উন্মোচিত হয়। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নিতে হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সভায় অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের কিছু সিদ্ধান্ত জনমনে নতুন করে অনাস্থা তৈরি করছে। বিশেষ করে ব্যাংক রেজুলেশন আইনে ১৮(ক) ধারা সংযোজনকে তারা ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের দাবি জানান। তাদের মতে, এই ধারা ব্যাংক খাতে পূর্বের বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ওমর ফারুককে কারণ উল্লেখ ছাড়াই ছুটিতে পাঠানোর ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ করণীয়

ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা পুনরুদ্ধারে সংগঠনটি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে– ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিল; ব্যাংক থেকে অনিয়মে জড়িতদের অপসারণ; পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা; দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

সংগঠনটি মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনও ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা ইসলামী ব্যাংকগুলোর নেই। তাই ব্যাংকিং খাতে পেশাদারত্ব, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নূরুল ইসলাম খলিফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।