ব্যাংক খাতে ডিস্ট্রেসড ঋণ নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যাখ্যা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিস্ট্রেসড ঋণ নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যাখ্যা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংক খাতের ডিসট্রেসড ঋণের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনও সংজ্ঞা ছাড়াই শ্রেণিকৃত ঋণের সঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ যোগ করে ডিস্ট্রেসড ঋণের হিসাব করায় ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে

বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিসিপি) থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে সতর্ক করে এই কথা বলা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট (এফএসআর) ২০২৫’ প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ ও অবলোপনকৃত ঋণ সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের নিজস্ব হিসাব

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এফএসআর ২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী ব্যাংক খাতের ডিস্ট্রেসড ঋণের হার ৪৫ শতাংশ, ৫৯ শতাংশ কিংবা ৬০ শতাংশ বলে প্রকাশ করেছে। তবে ব্যাংকিং নীতি প্রণয়নকারী আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থা ডিসট্রেসড ঋণের স্বীকৃত সংজ্ঞা নির্ধারণ করেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে যেসব ঋণ থেকে কোনও আয় আসে না অথবা যেসব ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না, সেগুলোকে ডিসট্রেসড ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পুনঃতফসিলকৃত অশ্রেণিকৃত ঋণের ক্ষেত্রে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয় বলে সেসব ঋণকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী অবলোপনকৃত ঋণ ব্যাংকের স্থিতিপত্রের অংশ নয়। ফলে এসব ঋণও ডিসট্রেসড ঋণের আওতায় ফেলার সুযোগ নেই। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বিভ্রান্তি এড়াতে আহ্বান

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, শ্রেণিকৃত ঋণের সঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ যুক্ত করে ডিস্ট্রেসড ঋণের হিসাব প্রকাশ করলে ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এই ধরনের সংবাদ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের আর্থিক খাত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিতে পারে। এই কারণে ব্যাংকিং খাতসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, বস্তুনিষ্ঠতা এবং বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।