ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবির তীব্র সমালোচনা
ব্যাংক আইনে লুটেরাদের পুনর্বাসন: টিআইবির সমালোচনা

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবির তীব্র সমালোচনা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬-এর তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, এই আইনের মাধ্যমে চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় দুর্নীতি ও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে।

আইনের নতুন ধারা নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬-এ ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ছাড়াই আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এ ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সব অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফেরার সুযোগ না থাকার বিধান ছিল। কিন্তু নতুন আইনে সেই বিধান সংশোধন করে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যাংকিং খাতের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক হলেও অবাক করার মতো নয়। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ কর্তৃত্ববাদী চর্চার ধারাবাহিকতা মাত্র, যেখানে 'উইনার টেইকস অল' ফর্মুলায় নীতিদখলের মাধ্যমে চোরতন্ত্রের সাময়িক বিরতির পর পুনর্বাসনের পথ সুগম রাখা হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে দিয়ে বলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের জন্য দায়ী পুরোনো শেয়ারহোল্ডাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হলে এই খাতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসবে না।
  • সরকার ব্যাংক সচল রাখা, আমানত সুরক্ষা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার নামে দুর্নীতিসহায়ক নতুন বিধান যুক্ত করেছে।
  • এই আইন ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানখাত সংস্কারের অঙ্গীকার প্রতিপালনে সহায়ক হবে না।

টিআইবির আহ্বান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সরকারকে এই ব্যাপারে পুনরায় ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই সিদ্ধান্ত আদৌ সুবিধাবাদী গোষ্ঠীতন্ত্রের স্বার্থরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে কিনা

সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সুশাসনের ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে দায়মুক্তি ও বিচারহীনতার পূর্ববর্তী কর্তৃত্ববাদী চর্চা অব্যাহত রাখা হয়েছে। টিআইবির মতে, এই পদক্ষেপ ব্যাংক খাতের লুটেরাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা দূরে থাক, বরং তাদের বিশালভাবে পুরস্কৃত করার শামিল, যা আত্মঘাতীমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।