দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ, সংসদে পাস হলো ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল
ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল পাস, পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ

ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল পাস: পুরোনো মালিকদের জন্য নতুন সুযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশটি বিল আকারে গতকাল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে এই বিলের সাথে একটি নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে, যা দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

নতুন ধারার বিস্তারিত

বিলের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার ধারক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি, ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই আবেদনের জন্য পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

অঙ্গীকারনামায় নিম্নলিখিত শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • রেজোল্যুশনভুক্ত হওয়ার আগে বা পরে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনায় ইচ্ছা প্রকাশ করা।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন মূলধন জোগান ও বিদ্যমান মূলধনঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
  • সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য সরকারি সংস্থা থেকে দেওয়া ঋণ, সুদ, মুনাফা, গ্যারান্টি ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া।
  • একীভূত হওয়ার আগের আমানতকারী, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পাওনাদার এবং তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি ও দায়সমূহ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা।
  • সরকারের সব কর এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ও অন্যান্য আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা।

আর্থিক শর্তাবলী

এই ধারার উপধারা (৩)-এ উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুরের তিন মাসের মধ্যে পূর্ববর্তী শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণের বাস্তবিক দখল হস্তান্তরের আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অর্থের সাড়ে ৭ শতাংশ পে-অর্ডার দিতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপধারা (৪) অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে সরল সুদসহ ফেরত দিতে হবে।

অধ্যাদেশের মূল কাঠামো

অধ্যাদেশের মূল কাঠামোর বড় অংশই এই বিলে পাস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোল্যুশন কর্তৃত্ব, প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, তৃতীয় পক্ষের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক, সরকারি সহায়তা, রেজোল্যুশন তহবিল, অবসায়ন ও দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান।

এই বিল পাসের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।