হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বীমা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংগ্রহ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় দুই বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গ্রাহক সংগ্রহ নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
বিরোধের সূত্রপাত ও সংঘর্ষের বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌশতপুর গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলী ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে এবং মোলদ হোসেন প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সে কর্মরত। গ্রাহক বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এই বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. দুলাল মিঞা বলেন, ‘দুই বীমা কোম্পানির গ্রাহক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত করছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রাহক সংগ্রহ নিয়ে প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে, যা মাঝেমধ্যেই উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এবারের সংঘর্ষটি বিশেষভাবে গুরুতর ছিল, কারণ এতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। অনেক পরিবার এখনও আতঙ্কে রয়েছেন এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া, এই ঘটনা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলেছে, কারণ সংঘর্ষের সময় অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা আহতদের চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছেন এবং হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।



