বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পেছাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ বৃহস্পতিবার আদালতে জমা পড়েনি। এ নিয়ে গত আট বছরে মোট ৯৪ বার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে। আদালতের নির্ধারিত দিনে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
নতুন তারিখ ১৮ মে নির্ধারণ
আগামী ১৮ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্তের অগ্রগতি এবং জটিলতার কারণে প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
২০১৬ সালের চুরির ঘটনা
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। চুরির ঘটনার ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিআইডি শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে।
চুরি হওয়া অর্থের উদ্ধার ও ফেরত
চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কা থেকে দুই কোটি ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। আর ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাধ্যমে ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ফেরত এসেছে। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনের আরসিবিসি থেকে বাংলাদেশ পায় মাত্র ৬৮ হাজার ডলার, তবে অন্যান্য উদ্যোগে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত আসে।
আরসিবিসিতে থাকা আরও ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করে ফেরত আনার বিষয়ে সম্প্রতি আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। এই আদেশের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পুনরুদ্ধারের আশা জেগেছে।
তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রতিক্রিয়া
এই মামলার তদন্ত দীর্ঘ আট বছর ধরে চলছে, যা আর্থিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক হ্যাকিং এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধের তদন্তে প্রযুক্তিগত ও আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে বারবার তারিখ পেছানো হতে পারে। তবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তদন্তের অগ্রগতি মনিটর করছে এবং চুরি হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন করে সতর্কতা ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।



