শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা দ্বিগুণ, ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
শাহজালাল ব্যাংকের মুনাফা দ্বিগুণ, ১৩% লভ্যাংশ

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা দ্বিগুণ, লভ্যাংশ বৃদ্ধি

দেশের বেসরকারি খাতের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর শেষে ব্যাংকটি ৩৬৮ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৯৯ কোটি টাকা বা প্রায় ১১৮ শতাংশ বেশি। এই তথ্য গতকাল বুধবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চূড়ান্ত হওয়া আর্থিক প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে।

শেয়ারবাজারে তথ্য প্রকাশ ও লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সভা থেকে গত বছর শেষে শেয়ারধারীদের জন্য ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই লভ্যাংশের ফলে ব্যাংকটির শেয়ারধারী ব্যক্তিরা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা ৩০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ পাবেন। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল, অর্থাৎ গত বছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা

শাহজালাল ব্যাংকের গত ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর ব্যাংকটি যে মুনাফা করেছে, তা এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল ১৩২ কোটি টাকা, যা ১০ বছরের ব্যবধানে বেড়ে গত বছর শেষে ৩৬৮ কোটি টাকা হয়েছে। এই হিসাবে ১০ বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা ২৩৬ কোটি টাকা বা প্রায় তিন গুণের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লভ্যাংশ বিতরণের প্রক্রিয়া

গত বছরের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বাবদ ব্যাংকটি প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে। অর্থাৎ, গত বছর ব্যাংকটি যে মুনাফা করেছে, তার প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ারধারীদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হবে। এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমের পর, যা আগামী ২৪ মে তারিখে নির্ধারিত হয়েছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ কারা পাবেন, সেটি ঠিক করার জন্য ব্যাংকটি রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করেছে ৩০ এপ্রিল। ওই দিন যাঁদের হাতে ব্যাংকটির শেয়ার থাকবে, তাঁরা ঘোষিত লভ্যাংশ পাবেন।

শেয়ার মালিকানা ও বিনিয়োগকারীদের অবস্থান

ব্যাংকটির ঘোষিত লভ্যাংশের বড় অংশ উদ্যোক্তা পরিচালকেরা পাবেন, কারণ এটির শেয়ারের মালিকানার বড় অংশই তাঁদের হাতে রয়েছে। সর্বশেষ গত মার্চের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির শেয়ারের ৪৩ শতাংশের বেশি মালিকানা উদ্যোক্তা–পরিচালকদের হাতে রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মালিকানা রয়েছে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে, যাঁদের হাতে গত মার্চ শেষে প্রায় ৩৩ শতাংশ শেয়ার ছিল। বাকি প্রায় সোয়া ২৪ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

শেয়ারবাজারে অন্যান্য ব্যাংকের অবস্থা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় ব্যাংক হিসেবে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক তাদের গত বছরের মুনাফা ও লভ্যাংশের তথ্য প্রকাশ করেছে। এর আগে প্রাইম ব্যাংক গত বছর শেষে তাদের রেকর্ড মুনাফার তথ্য প্রকাশ করে। এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যে দুটি ব্যাংক গত বছরের মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে, দুটিরই মুনাফা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে, যা ব্যাংক খাতের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।