ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলপিজি আমদানিতে ঋণ সীমা শিথিল
বাংলাদেশ ব্যাংক তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি আমদানির জন্য একক গ্রাহক ঋণ সীমা শিথিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্ভূত অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের অর্থায়নে কোনো বাধা না আসা নিশ্চিত করতে।
নতুন নোটিফিকেশন জারি
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিষয়ে একটি নোটিফিকেশন জারি করে দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে। নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে, এলপিজি আমদানির জন্য কোনো ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণ সীমা মোট মূলধনের ২৫% ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের সুযোগ থাকবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কতটা ঋণ দেওয়া যেতে পারে তা আলাদাভাবে বিবেচনা ও অনুমোদন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শুধু এলপিজি আমদানির জন্য প্রযোজ্য
এই সুবিধা শুধুমাত্র এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, অন্য কোনো পণ্য আমদানির জন্য নির্ধারিত ২৫% ঋণ সীমা অতিক্রম করতে কোনো একক গ্রাহককে অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের জন্য ঋণ প্রবাহ সহজ করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে ব্যাংকিং খাত ও আমদানিকারকরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তারা আশা করছেন, এটি এলপিজি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটাতে সাহায্য করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



