ঈদে সাধারণ মানুষের জন্য নেই নতুন টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার সাধারণ নাগরিকদের জন্য টাকার নতুন নোট ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তের ফলে বেশির ভাগ মানুষকে নতুন নোট ছাড়াই ঈদ উদযাপন করতে হবে, এমনকি শিশু-কিশোরদের হাতেও উঠবে না নতুন টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন টাকার নোটের বিশেষ ব্যবস্থা করেছে, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নোটের বরাদ্দ
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে গতকাল রোববার থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নোট পেতে শুরু করেছেন। অফিস আদেশ অনুসারে, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রত্যেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ নতুন নোট নিতে পারবেন। অন্যদিকে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন। ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চাহিদা অনুসারে এই নতুন নোট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সমালোচনা ও দ্বৈত নীতির অভিযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করছেন অনেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার চাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের সংস্কার করতে চায় না। নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে চাইলেও ব্যাংক নিজেরা ঠিকই নগদ টাকার ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। একাধিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, "কিছু কর্মকর্তা ব্যাংক খাতের সংস্কার চান, কিন্তু নিজেদের সংস্কার চান না। বাংলাদেশ ব্যাংক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে সবাই একযোগে এর প্রতিবাদ করেন।"
প্রশ্ন উঠেছে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের বেতন-ভাতার চেয়ে বেশি নতুন নোট নিতে পারবেন, যা অবৈধ উপায়ে লেনদেনের মাধ্যমে ফুটপাতের নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসায়ীদের কাছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ঈদে নতুন নোটের চাহিদা ও ফুটপাতের ব্যবসা
প্রতিবছর ঈদের সময় টাকার নতুন নোটের ব্যাপক চাহিদা থাকে, বিশেষ করে ঈদ সালামি হিসেবে নতুন নোট বেশ জনপ্রিয়। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার বেচাকেনার অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠে। মূলত ফুটপাতেই এই ব্যবসা বেশি চলে, এবং ঈদের সময় এটি বেশ জমজমাট থাকে। কিন্তু এবার বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদের আগে নতুন নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে, যা ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঈদের আগে নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়া থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সরে এসেছে, তাই এবার ঈদের আগে নতুন টাকা ছাড়া হবে না। তবে এই ব্যাখ্যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার সমালোচনা কমাতে পারেনি।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতির দ্বৈততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঈদের আনন্দে নতুন টাকার অভাব এবং কর্মকর্তাদের বিশেষ সুবিধা এই ইস্যুটি জাতীয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে।



