ব্যাংক ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা, ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি পদ্ধতি
ব্যাংক ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা, ২০২৮ থেকে কার্যকর

ব্যাংক খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন: প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি পদ্ধতি চালু

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রতিবেদনের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ রোববার প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি পদ্ধতি চালুর নীতিমালা জারি করেছে, যা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঋণ শ্রেণীকরণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সমন্বয়

আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী নতুন এই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ শ্রেণীকরণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি কার্যক্রম পরিচালনা করে ‘ক্ষতি হওয়ার পর’ ভিত্তিতে। কিন্তু নতুন নিয়মে ব্যাংকগুলোকে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম প্রভিশন রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে অতীত তথ্যের পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস—যেমন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি—বিবেচনায় নিয়ে ঋণের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে।

তিন ধাপে ঋণ শ্রেণীকরণ

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী ঋণ তিনটি ধাপে শ্রেণীকরণ করা হবে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. প্রথম ধাপ: স্বাভাবিক ঋণের ক্ষেত্রে আগামী ১২ মাসের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি নির্ধারণ করা হবে।
  2. দ্বিতীয় ধাপ: ঋণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে পুরো মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে।
  3. তৃতীয় ধাপ: ‘ক্রেডিট ইমপেয়ার্ড’ বা ক্ষতিগ্রস্ত ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

সুদ আয়ের স্বীকৃতিতে পরিবর্তন

নতুন কাঠামোর অধীনে সুদ আয়ের স্বীকৃতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঋণের ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সুদ আয়ের হিসাব নির্ধারণ করা হবে, যা ব্যাংকের প্রকৃত আয় ও ঝুঁকির চিত্র আরও বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিফলিত করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ‘এখন ঋণ খারাপ হওয়ার পর ব্যাংক নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখে। নতুন নিয়মে ঋণের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে।’

ব্যাংকগুলোর সুবিধা

এই পদ্ধতি চালু হলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে। কোনো ঋণ খেলাপি হলেও পুরো নিরাপত্তা সঞ্চিতির চাপ একসঙ্গে নিতে হবে না, ফলে ব্যাংকের মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বাংলাদেশ এ ধরনের মানদণ্ড বাস্তবায়নের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, কিন্তু এত দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ছিল না। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের পথ তৈরি হলো।