রমজান ও ঈদে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের বিশেষ অফার: ভ্রমণ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স পর্যন্ত পুরস্কার
রমজান-ঈদে ভিসা-মাস্টারকার্ডের বিশেষ অফার ও পুরস্কার

রমজান ও ঈদে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের বিশেষ অফার: ভ্রমণ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স পর্যন্ত পুরস্কার

পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সময় সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও খরচের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ঈদের পোশাক, উপহার সামগ্রী এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার প্রবণতা বেড়ে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক কার্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভিসা ও মাস্টারকার্ড তাদের গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় অফার ও ক্যাম্পেইন চালু করেছে।

ভিসা কার্ডের বিশেষ ক্যাম্পেইন: স্পেন্ড অ্যান্ড উইন ও ট্রানজ্যাক্ট অ্যান্ড উইন

ঈদকে কেন্দ্র করে ভিসা কার্ড 'স্পেন্ড অ্যান্ড উইন' এবং 'ট্রানজ্যাক্ট অ্যান্ড উইন' নামে দুটি নতুন প্রচারণা শুরু করেছে। এই ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। স্পেন্ড অ্যান্ড উইন ক্যাম্পেইনের আওতায় ভিসা কার্ডধারী বিজয়ীরা লন্ডন, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ এবং থাইল্যান্ডসহ মোট ছয়টি দেশে সম্পূর্ণ খরচসহ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। বিজয়ীরা তাদের সঙ্গে একজন অতিথিকেও নিয়ে যেতে পারবেন।

এছাড়াও, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আইফোন, স্মার্ট টিভি, স্বর্ণালংকারের ভাউচার, লাইফস্টাইল গিফট ভাউচার এবং গ্রোসারি গিফট ভাউচারসহ পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। ভিসা কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লেনদেন করা প্রথম ৫০ জন এই পুরস্কার পাবেন। তবে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন এবং মোবাইল ওয়ালেটের লেনদেন এই হিসাবে যোগ হবে না।

ট্রানজ্যাক্ট অ্যান্ড উইন ক্যাম্পেইনে ২০টি বা তার বেশি লেনদেন সম্পন্ন করলে ২০০ টাকা মূল্যের ভাউচার পাওয়া যাবে। এছাড়া বিভিন্ন হোটেল ও ট্রাভেল এজেন্সিতে ১০ থেকে ৫৫ শতাংশ ছাড়, স্বাস্থ্যসেবা খাতে হাসপাতালে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ছাড় এবং নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ও ব্র্যান্ডে ৫০০ টাকা ক্যাশব্যাক বা ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ইস্যুকৃত বৈধ ভিসা ডেবিট, প্রিপেইড বা ক্রেডিট কার্ডধারীরা এই অফারে অংশ নিতে পারবেন।

ভিসার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, 'এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনকে আরও উৎসাহিত ও আনন্দময় করতে চাই। ভ্রমণ প্যাকেজ, স্মার্টফোন, লাইফস্টাইল, জুয়েলারি, গ্রোসারিসহ বিভিন্ন ধরনের ভাউচার পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে আমরা কার্ড ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছি। এতে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে।'

মাস্টারকার্ডের উৎসব আনন্দে পেমেন্ট এক ট্যাপে ক্যাম্পেইন

রমজান ও ঈদ উপলক্ষে মাস্টারকার্ড 'উৎসব আনন্দে পেমেন্ট এক ট্যাপে' ক্যাম্পেইন চালু করেছে। এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মোট খরচ করা কার্ডধারীরা এক লাখ টাকা মূল্যের হোম অ্যাপ্লায়েন্স ভাউচার পাবেন। ক্যাম্পেইনটি ২০ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবং মাস্টারকার্ড ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডধারীরা অংশ নিতে পারবেন।

এই ক্যাম্পেইন আটটি সুপারশপ চেইনে চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্বপ্ন, ইউনিমার্ট, আগোরা, মীনা বাজার, ল্যাভেন্ডার, প্রিন্স বাজার, ডেইলি শপিং এবং আলফামার্ট। প্রতিটি পার্টনার সুপারশপ থেকে একাধিক বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট ৫০টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে, যেমন ব্লুচিজ, টুয়েলভ ক্লোদিং, কে ক্র্যাফট, অ্যাস্টোরিয়ন, ডিমান্ড, স্কেচার্স, স্পার্ক গিয়ার, কিউরিয়াস, ভাইব্র্যান্ট, মিরর, প্রেম’স কালেকশন ইত্যাদি।

প্রায় ৫০টি পার্টনার রেস্টুরেন্টে, যেমন সিক্স সিজন, লেকশোর হাইটস, দ্য জাবির ঢাকা, দ্য ওয়ে ঢাকা, বেস্ট ওয়েস্টার্ন ম্যাপল লিফ, হোটেল সারিনা, হানসা ইত্যাদিতে ইফতার ও ডিনারে 'বাই ওয়ান গেট আপ টু ৪' অফার রয়েছে। আন্তর্জাতিক ট্রাভেল প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে শেয়ারট্রিপ, হেরিটেজ রিসোর্ট, বে ওয়াচ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন বে হিলস, দুসাই, ড্রিম স্কয়ার, সারা রিসোর্ট অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া ১ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত '১৪ দিনে-১৪ লাখ' শীর্ষক আরেকটি ক্যাম্পেইন চলবে। এই সময়ে মাস্টারকার্ডের ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে কেনাকাটা করলে ১৪ দিনে সর্বোচ্চ খরচ করা ১৪ জন গ্রাহককে ১ লাখ টাকা মূল্যের গ্যাজেট ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স ভাউচার দেওয়া হবে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, 'রমজানে কেনাকাটার পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় ইফতার করার প্রবণতা বাড়ে। আর ঈদকে ঘিরে লাইফস্টাইল বেড়ে যায় ও ভ্রমণের প্রস্তুতিও শুরু হয়। তাই মাস্টারকার্ডও এই উৎসবকালীন চাহিদাকে সামনে রেখে এসব ঈদ ক্যাম্পেইন সাজিয়েছি, যা দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।'

এই বিশেষ অফারগুলো রমজান ও ঈদে গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করছে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।