বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোস্তাকুর রহমান
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষিক্ত হন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়ী পেশাজীবীকে গভর্নরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে দশটায় প্রধান কার্যালয়ে আগমন ও কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা

নতুন গভর্নর সকাল প্রায় সাড়ে দশটার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান ডেপুটি গভর্নরসহ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশের পূর্বে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে মোস্তাকুর রহমান বলেন, "আমি এসে পৌঁছেছি, চলুন কাজ শুরু করি। আমরা পরে কথা বলতে পারব।" এই মন্তব্য থেকে তার দ্রুত কাজে মনোনিবেশ করার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের পরের কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নতুন গভর্নর সকালের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তার প্রথম কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এবং প্রধান অর্থনীতিবিদের সাথে আলোচনা। এরপর তিনি নির্বাহী পরিচালকদের সাথে পৃথক বৈঠক পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেন। সূত্রমতে, দুপুর সাড়ে একটার দিকে তিনি সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

পূর্ববর্তী গভর্নরের অপসারণ ও নতুন নিয়োগের প্রেক্ষাপট

এই নিয়োগের পূর্বে সরকার সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে তার পদ থেকে অপসারণ করে মোস্তাকুর রহমানকে তার উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই পরিবর্তন বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে একজন ব্যবসায়ীর নিয়োগ দেশের আর্থিক খাতের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মোস্তাকুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক নীতিনির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এমন প্রত্যাশা ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক মহলে প্রকাশ পাচ্ছে।