বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানের যোগদান সম্পন্ন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের যোগদান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানের যোগদান সম্পন্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার কিছু আগে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্বাগত জানান।

নিয়োগ প্রক্রিয়া ও শর্তাবলি

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. মোস্তাকুর রহমানের পেশাগত অভিজ্ঞতা

দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি সময়ের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) হিসেবে দেশের আর্থিক ও শিল্প খাতের অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি কর্পোরেট ফাইন্যান্স, রপ্তানি, অর্থনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বদানকারী একজন বিশেষজ্ঞ।

তিনি ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং আইসিএমএবি’র ফেলো হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়াও, তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন, যা তার আর্থিক খাতের গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটায়।

নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের যোগদান বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।