অর্থমন্ত্রী: গভর্নর পরিবর্তন নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের অংশ
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তনকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিবেচনার তো কিছু নেই। একটা নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি আছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন খালি বাংলাদেশ ব্যাংকেই তো হয়নি, পরিবর্তন অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং এটা হতেই থাকবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি, পছন্দ ও নীতিগত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তন হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হতে থাকবে। তিনি এটিকে খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন।
গভর্নর পদে নিয়োগ ও পরিবর্তনের পটভূমি
এর আগে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর ১০ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেবেন। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২-এর ১(৫) অনুযায়ী পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরকে ২০২৪ সালের আগস্টে চার বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র দেড় বছরের মাথায় তাকে গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন নতুন সরকারের কর্মসূচি ও নীতিগত চিন্তা-ভাবনা বাস্তবায়নের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়েছেন যে প্রয়োজনবোধে ভবিষ্যতেও অনুরূপ পরিবর্তন হতে পারে, যা একটি গতিশীল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক দিক।
