বাংলাদেশ ব্যাংক তার চলমান আর্থিক কৌশলের অংশ হিসেবে একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের অবমূল্যায়ন রোধ করা এবং রেমিট্যান্স ও রফতানি খাতে গতি সঞ্চার করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডলার ক্রয়ের মূল্য ও পরিসংখ্যান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। এই ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৯৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৪ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ডলার ক্রয় কার্যক্রমটি একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক কৌশলের অংশ। টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য রক্ষা করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। রেমিট্যান্স ও রফতানি খাতকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের প্রতিক্রিয়া
এই ডলার ক্রয়ে অংশগ্রহণকারী ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। তারা মনে করছে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে মার্কিন ডলারের প্রবাহ বাড়াবে এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও, এটি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ডলার ক্রয় কার্যক্রম দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অনুরূপ কৌশলগত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
