সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক’-এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগের আবেদন শেষ হয়েছে। ১৩ জুন এই পদে আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়। ব্যাংকের ১৬তম গ্রেডের এই পদে ৪২ হাজার ৫৯৪ তরুণ আবেদন করেছেন চাকরি পেতে। ৩০০টি স্থায়ী আসনের বিপরীতে এই আবেদনের সংখ্যা বেশ সন্তোষজনক। একটি পদের জন্য আবেদনকারী প্রার্থী ১৪২ জন। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের এমন বিপুল সাড়া একটি ইতিবাচক খবর। দেশের তরুণদের কাছে ডাটা এন্ট্রি এখন একটি সম্ভাবনাময় ও প্রযুক্তিবান্ধব নতুন পেশা হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। তাই মেধা, কারিগরি দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতেই যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হবে।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর: একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা
কাজের পরিধি, সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা—ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদটিকে শুধু সাধারণ ‘টাইপিং’ পেশা মনে করার দিন শেষ। আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এটি একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও মর্যাদার পেশা। একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের মূল কাজ হলো ব্যাংকের গ্রাহকদের লাখ লাখ গোপন তথ্য ডিজিটাল সিস্টেমে রূপান্তর করা। ঋণ আদান-প্রদানের বিবরণী এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন তাঁরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডাটাবেজে যুক্ত করেন।
কাগজের ফাইল দেখে কম্পিউটারে নিখুঁতভাবে তথ্য ইনপুট দেওয়ার কাজটি তাঁরাই করেন। আগের ডাটা হালনাগাদ করা এবং ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভারের তথ্য সুরক্ষিত রাখাও তাঁদের প্রাথমিক দায়িত্ব। এই পেশায় কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি শতভাগ সৎ ও বিশ্বস্ত থাকা বাধ্যতামূলক। গ্রাহকের গোপনীয় তথ্য ও ব্যাংকের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদের কর্মীদের নৈতিকতা সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
ব্যাংকিং খাতে ডাটা এন্ট্রির গুরুত্ব
আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এই পদের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যাংকের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রথম ধাপটি শুরু হয় ডাটা এন্ট্রি থেকে। এখানে একটি ছোট ভুল বা অবহেলা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। একটি সংখ্যার গরমিল তৈরি করতে পারে জালিয়াতি কিংবা আইনি জটিলতা। তাই ব্যাংকিং সেবাকে গতিশীল, আধুনিক এবং পুরোপুরি নিরাপদ করার জন্য দক্ষ ও সৎ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর অপরিহার্য।
এ প্রসঙ্গে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ১৩ জুন আবেদনের সুযোগ শেষ হয়েছে। মোট আবেদন করেছেন ৪২ হাজার ৫৯৪ জন। ব্যাংকের সেবাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে আমরা সবচেয়ে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদেরই বাছাই করব।’
যোগ্যতা ও নির্বাচন পদ্ধতি
এই পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। তবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। এখানে বিশেষ কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে বাংলায় ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে ২৮ শব্দের গতি থাকতে হবে। পাশাপাশি ‘Standard Aptitude Test’-এ উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
৩০০টি পদের বিপরীতে আসা এই ৪২ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে প্রথমে আবেদনপত্র বাছাই ও লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কম্পিউটার ব্যবহারের ওপর ‘ব্যবহারিক পরীক্ষা’ দিতে হবে। এরপর চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সফল প্রার্থীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা স্কেলে (গ্রেড-১৬) বেতন পাবেন। এর সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হবে।



