এলডিসি উত্তরণে রপ্তানি চ্যালেঞ্জ বাড়বে: তথ্যমন্ত্রী
এলডিসি উত্তরণে রপ্তানি চ্যালেঞ্জ বাড়বে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি খাতে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে, কমবে না। তাই রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনীতিকে সাজাতে হবে। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানোর সুপারিশ

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সুপারিশ করেছে। এখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি অনুমোদন করতে হবে। যেহেতু সাধারণ পরিষদের সভাপতি এখন বাংলাদেশের, তাই এই শর্ত তেমন বাধা হবে না বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ধরে নিতে পারি যে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা তিন বছর বর্ধিত সময় পাব। কিন্তু এই তিন বছরকে কী কাজে লাগাব এবং কোথায় কোথায় কাজে লাগালে রপ্তানির সক্ষমতা বাড়বে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’

রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ভাটা

অনুষ্ঠানে র্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ভাটা অর্থাৎ নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গত চার বছরে দেশের রপ্তানি আয় কোনোভাবেই বাড়েনি, বরং আগের তুলনায় কমেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি ও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ রপ্তানিতে অনেক পিছিয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গত চার বছরে আমাদের রপ্তানি একই জায়গায় আটকে আছে, অথচ প্রতিযোগী দেশ কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য দেশ এই সময়ে রপ্তানি যথেষ্ট বাড়িয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান বাজারে আইনকানুন পরিবর্তন

এম এ রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের প্রধান বাজার—ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রে খুব দ্রুত আইনকানুন পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সুবিধা নিচ্ছে, ফলে বাংলাদেশ মারাত্মক প্রতিযোগিতার চাপে পড়েছে। এলডিসি উত্তরণের আগেই রপ্তানি সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে; উত্তরণ হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির কার্যকারিতা

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) করেছিল, কিন্তু সেখানে যেসব সংস্কার ও কাজের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোতে গতি আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান এম এ রাজ্জাক। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কথা বললেও শর্ত দিয়েছে যে এই সময় নির্ভর করবে বাংলাদেশ সংস্কার করতে পারছে কি না। এসটিএসের কার্যকর বাস্তবায়ন না হলে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না।

বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর

নতুন রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ এনে রপ্তানি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হবে। যারা এখন রপ্তানিমুখী বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে।’ বাজারের প্রবেশাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ মানেই শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বাণিজ্য সুবিধা শেষ হয়ে যাওয়া নয়; উত্তরণের পরেও মুক্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে বা দ্বিপক্ষীয় দেনদরবার করে সুবিধা নেওয়া সম্ভব।

কার্যকর করহার নিয়ে উদ্বেগ

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলেন যে বাইরে থেকে বাংলাদেশে করের হার কম মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের অনেক বেশি কর দিতে হয়। কাগজে-কলমে করের হার ২৫ বা ২৭ শতাংশ হলেও সব মিলিয়ে কার্যকর করের হার গিয়ে দাঁড়ায় ৫৫ শতাংশে। এই জায়গায় কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন র্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক ও ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার। সঞ্চালনা করেন র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ।