দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে জিরা আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জিরা ভর্তি ভারতীয় একটি ট্রাক বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে রোববার বিকালে ভারতীয় ট্রাক বোঝাই জিরা স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।
আমদানির বিবরণ
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্র জানায়, মাদারীপুরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদিনা ট্রেডার্স আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করে। ভারতীয় একটি ট্রাকে ১০০টি বস্তায় করে এই জিরা আমদানি করা হয়। প্রতি কেজি জিরা সাড়ে ৩ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৩০ টাকা ৫০ পয়সা।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
আখাউড়া স্থলবন্দরে জিরা আমদানি কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট মেসার্স শোয়েব ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “নতুন (২০২৬-২০২৭) অর্থ বছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এরই অংশ হিসেবে জিরা আমদানি করা হয়েছে।”
আখাউড়া স্থলবন্দর ওয়্যারহাউজ (গুদাম) সুপারভাইজার মো. মিশু খান যুগান্তরকে জানান, “প্রায় পাঁচ মাস পর এ পথে জিরা আমদানির মধ্য দিয়ে নতুন অর্থ বছরে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এর আগে গত অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে ৩৬ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করা হয়েছিল। চাহিদা অনুযায়ী বাজার মূল্য পাওয়া গেলে জিরা আমদানি বাড়বে।”
কর্মসংস্থান ও রাজস্ব
আখাউড়া স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মেহদী হাসান বলেন, “নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত সব পণ্য আমদানির কার্যক্রম শুরু হলে বন্দরে কর্মসংস্থান বাড়বে।” আখাউড়া কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “আমদানি বাণিজ্য বাড়লে ব্যবসায়ী ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে। বন্দরটি আরও গতিশীল হবে। সরকার রাজস্ব পাবে।”
বন্দরের ইতিহাস
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে পোর্ট অব কল হিসাবে আখাউড়া স্থলবন্দরের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১০ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তবে রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকলেও আমদানি বাণিজ্য তলানিতে ঠেকেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জিরা আমদানির মধ্য দিয়ে আবারও আমদানি বাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন আখাউড়া স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও ব্যবসায়ীরা।



