মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চীনা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
চট্টগ্রাম বন্দরে একটি উল্লেখযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ পৌঁছেছে, যেখানে মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে চীনের পতাকাবাহী 'শান গ্যাং ফা জিয়ান' নামের জাহাজটি এসে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাহাজের আগমন ও অপারেশন বিশদ
জাহাজটি ২৯ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে এবং শুক্রবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে, বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়। স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে প্রাইড শিপিং লাইনস দায়িত্ব পালন করছে। প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, জাহাজে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫-৬ হাজার টন ডিজেল বহির্নোঙরে ছোট জাহাজে খালাস (লাইটারিং) করতে হবে।
এই খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অন্তত দুই দফা অপারেশন প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে, রোববার জাহাজটি পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভিড়তে পারে, যা জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ও বন্দর ব্যবস্থাপনা
এর আগে, শুক্রবার দুপুর ২টায় সিঙ্গাপুর থেকে আসা 'ইয়ান জিং হে' নামের আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬-এ খালাস কার্যক্রম শুরু করেছে। এই জাহাজটিও প্রাইড শিপিং লাইনসের স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে এবং এটি রোববার বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এই ব্যবস্থা জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে এবং বন্দরের কার্যক্রমকে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে ভূমিকা রাখছে।
বিপিসির উদ্যোগ ও প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্র থেকে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো দশম ডিজেল জাহাজ। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাইপলাইনে থাকা সরবরাহের পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। মালয়েশিয়ার মতো বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল আমদানি বৃদ্ধি, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পারে।



