ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসে হিলি স্থলবন্দরে ১০ দিনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানা ১০ দিনের জন্য সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) থেকে কার্যকর হয়ে আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত, যাত্রী পারাপার অব্যাহত
হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম মণ্ডল জানিয়েছেন, সংগঠনের একটি জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৮ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতোমধ্যে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ মার্চ থেকে পুনরায় বন্দরের সকল বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।"
বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার নিয়মিত সময়ের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, "বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের কোনো প্রভাব যাত্রী পারাপারে পড়বে না। ঈদ উপলক্ষে যেসব যাত্রী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করবেন, তাদের জন্য ইমিগ্রেশন সেবা সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।"
সরকারি ছুটির প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমির হামজা ব্যাখ্যা করেন, সরকারি ছুটির কারণে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত ছুটি ব্যতীত কাস্টমস অফিসের দাপ্তরিক কাজ সীমিত পরিসরে চলমান থাকবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, "২৮ মার্চ বন্দর পুনরায় সচল হলে আগের মতোই কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকবে।"
এই সাময়িক বন্ধের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর কিছু প্রভাব পড়তে পারে, তবে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রী সেবা অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। হিলি বন্দরটি বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবগুলোতে এমন ব্যবস্থা নিয়মিত দেখা যায়।
