শবে কদর, ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসে ১১ দিন বন্ধ থাকবে বুরিমারি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি
শবে কদর, ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসে বুরিমারি বন্দরে ১১ দিন বন্ধ

বুরিমারি স্থলবন্দরে ১১ দিনের বাণিজ্যিক বিরতি

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বুরিমারি স্থলবন্দরে আগামী ১১ দিন ধরে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্থগিত থাকবে। ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব শবে কদর, ঈদ-উল-ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি ও ছুটির জন্য এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বুরিমারি কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বন্ধের সময়সূচি ও পুনরায় চালুর তারিখ

অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি অনুযায়ী, বন্দরটির সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ১১ দিন বন্ধ থাকবে। এই দীর্ঘ বিরতির পর ২৮ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে আমদানি-রপ্তানি কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও সমন্বয়ের পরই উৎসবের মর্যাদা রক্ষার্থে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তি

বুরিমারি সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রেরিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বুরিমারি স্থল কাস্টমস স্টেশন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, ভারতের চাংরাবান্ধা কাস্টমস, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, ভুটানের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং দুই দেশের পরিবহন ও শ্রম সংগঠনসমূহ।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও যাত্রী চলাচলের অবস্থা

বুরিমারি সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসাইন জানান, ধর্মীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ব্যবসায়ীদের পরামর্শে এই অস্থায়ী বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "শবে কদর, ঈদ-উল-ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবসের এই পবিত্র সময়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ১১ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ২৮ মার্চ থেকে সব কাজ স্বাভাবিক গতিতে আবার শুরু হবে।"

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও এই পুরো সময়জুড়ে সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। বুরিমারি স্থলবন্দর পুলিশ ইমিগ্রেশন পোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ধারণকারী যাত্রীরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে সীমান্ত পারাপার করতে সক্ষম হবেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের ভূমিকা

বুরিমারি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান ব্যাখ্যা করেন, ব্যবসায়ীরা যখন তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বন্দরের অপারেশন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, বুরিমারি স্থল কাস্টমস স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার মুহাম্মদ মোহিউদ্দিন যোগ করেন যে, ছুটির সময়ে অভ্যন্তরীণ কাস্টমস কার্যক্রম সীমিত আকারে অব্যাহত থাকবে, যাতে জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও নথিপত্রের প্রক্রিয়াকরণে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

এই সাময়িক বন্ধের ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে উৎসবের আনন্দ ও জাতীয় দিবসের মর্যাদা রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।