ঈদের ছুটিতেও সীমিত আকারে শুল্ক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিতেও দেশের শুল্ক ঘর ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে সীমিত আকারে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নির্দেশনা জারি ও কার্যক্রমের সময়সীমা
সোমবার (৯ মার্চ) এনবিআরের শুল্ক নীতি শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিনগুলোতেও (ঈদ বাদে) শুল্ক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
প্রয়োজনীয়তা ও উদ্যোগের পটভূমি
ঈদের প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য সময়মতো পাঠানো এবং আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত ক্লিয়ার করার নিশ্চয়তা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) অনুরোধের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ছুটির দিনগুলোতেও সীমিত আকারে শুল্ক কার্যক্রম খোলা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান শুল্ক ঘর ও স্টেশনগুলোর তালিকা
এ বিষয়ে এনবিআর দেশের সব প্রধান শুল্ক ঘর ও স্টেশনের কমিশনারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
- ঢাকা
- চট্টগ্রাম
- বেনাপোল
- আইসিডি কমলাপুর
- মোংলা
- পাংগাঁও
- চট্টগ্রাম আইসিডি
- ভোমরা শুল্ক স্টেশন
এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের শুল্ক, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেটকেও বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা
অতিরিক্তভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমও নিরবচ্ছিন্ন থাকে।
একইসাথে এফবিসিসিআই, ফরেন চেম্বার, ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার, চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিএমইএ এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে তাদের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও সম্ভাব্য সুবিধা
ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের ছুটির দিনগুলোতেও যদি সীমিত আকারে শুল্ক কার্যক্রম চালু রাখা হয়, তাহলে রপ্তানি পণ্য পাঠানো এবং আমদানিকৃত পণ্য খালাস করার কাজে ভিড় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম এগিয়ে চলতে থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ ও রপ্তানি খাতের গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ঈদের আগে বাজার সরবরাহও নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
